বনু কুরাইজা অভিযান বিষয়ক সকল অপপ্রচারের জবাব

বনু কুরায়জার গণহত্যাকে জাস্টিফাই করতে মুসলিমরা বনু কুরায়জার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ প্রমাণ করতে তারা সম্পূর্ণ ঘটনা না বলে প্রথমদিকের কিছু অংশ বলে ও পরের অংশ বাদ দেয় যাতে মানুষ প্রকৃত সত্য বুঝতে না পারে ও মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায়। মুসলিমরা যতটুকু বলে তা হলোঃ 


বানু নাদির গোত্রের হোয়াই-বিন-আখতাব মদিনা থেকে বিতাড়িত হবার পরে খাইবারে আসন গেড়ে বসে। সে কুরাইযা গোত্র প্রধান কাব-বিন-আসাদকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে আরবের সকল পৌত্তলিক এখন একত্রিত। গাতাফান আর নজদের পৌত্তলিকরাও সাথে যোগ দিয়েছে। আর ঐদিকে খাইবার থেকে ইহুদীদের কয়েক হাজার সদস্যের বাহিনী খুব তাড়াতাড়ি এসে যোগ দিতে যাচ্ছে আহযাবে। সুতরাং এটাই মুসলিমদের সমূলে উৎপাটন করার সুবর্ণ সুযোগ। কাব প্রথমে নিমরাজী থাকলেও শেষে খন্দকে আহযাব পক্ষে যোগ দিতে রাজী হয়। কুরাইযা গোত্রের এই বিদ্রোহের খবর পাওয়া মাত্র আওস ও খাযরায গোত্রের প্রধান সাদ বিন উবাদা (রাঃ) ও সাদ বিন মুয়াদ (রাঃ) সহ আর কিছু সাহাবীকে মুহাম্মাদ (সাঃ) খন্দকের প্রান্ত থেকে কুরাইযা পল্লীতে পাঠান। তাঁরা কুরাইযা পল্লীতে উপস্থিত হয়ে আগের পৌণঃপুনিক চুক্তি ভাঙ্গার কথা তুলে ধরেন ও তাদেরকে এই বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু আহযাবে মুসলিমদের পরাজয় সুনিশ্চিত ও খায়বার থেকেও ইহুদী দল মদিনা আক্রমণে আসছে – এই দুই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তারা উল্টা মুসলিমদের গালাগালি করা শুরু করে দেয়। তাদের দলপতি কাব বিন আসাদ বলে ওঠে, “মোহাম্মদ কে? আমরা তাকে চিনি না। আমরা কোনো সন্ধিপত্রের ধার ধারি না। তোমরা চলে যাও।” 

[সীরাতুন নবী (সা.) ৩য় খন্ড- ইবনে হিশাম (র.), পৃষ্ঠা ২২০-২২১] 


এটা তো বনু কুরায়জা কাহিনীর অতি ক্ষুদ্র একটা অংশ। এতটুকু থেকে কোনোভাবেই প্রমাণ হয় না, বনু কুরায়জা মুসলিমদের সাথে চুক্তিভঙ্গ বা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, বরং তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের সহযোগিতা করার ব্যপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ তখনও শুরুই হয়নি। তারপরেই রয়েছে আসল ঘটনা যা থেকে আমরা বুঝতে পারব, বনু কুরায়জা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত যাই নিক, শেষ পর্যন্ত তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে  যায় নি। 


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ চুক্তিভঙ্গের ঘটনা কতটুকু যৌক্তিক তা নিয়ে লেখার শেষ অংশে বিশ্লেষণ করা হবে।

বনু কুরায়জা যদি সেদিন সম্মিলিত কুরাইশ জোটকে মদিনায় ঢুকতে দিত, আজকে মুসলিম বলে পৃথিবীতে কোনো প্রাণী থাকতো না। বনু কুরায়জার চুক্তিভঙ্গের খবর পেয়ে নবী খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন।কুরাইশদের জোটসঙ্গী বনু গাতফান গোত্রের নু'আয়ম ইসলাম গ্রহণ করেছিল কিন্তু তার গোত্রের কেউ সেটা জানত না। রাসূল নু'আয়ম কে দায়িত্ব দিলেন বনু কুরায়জার সাথে মুশরিকদের জোট ভেঙ্গে দেওয়ার। নু'আয়ম গিয়ে বনু কুরায়জাকে বললেন, মুশরিকরা যদি মাঝপথে যুদ্ধ ছেড়ে চলে যায়, তোমাদের পরিবার -পরিজন মুহাম্মদের হাতের মুঠোয় চলে যাবে। কুরাইশ ও বনু গাতফান গোত্রের মতো তোমরা নও, তারা বহিরাগত, তারা যে কোনো সময় যুদ্ধ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারবে কিন্তু তোমরা তা পারবে না। তাই তাদের কিছু লোককে তোমাদের জিম্মায় রাখার শর্তে তাদের সহযোগিতা কর। অন্যদিকে কুরাইশ ও বনু গাতফান গোত্রের লোকদের বললেন, বনু কুরায়জা মুহাম্মাদের সাথে চুক্তিভঙ্গ করে অনুতপ্ত। তারা আপনাদের লোকদের মুহাম্মাদের হাতে তুলে দিতে চায় যাতে মুহাম্মদ তাদের হত্যা করতে পারে। যথারীতি যুদ্ধের সময় বনু কুরায়জা মুশরিকদের কিছু লোককে জিম্মি রাখতে চাইলে তারা অস্বীকার করে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো যুদ্ধই হয় নি এবং মুশরিকরা ব্যর্থ হয়ে মক্কায় ফিরে যায়। 

[সীরাতুন নবী (সা.) ৩য় খন্ড- ইবনে হিশাম (র.), পৃষ্ঠা ২২৭-২৩০] 


তাহলে আমরা দেখলাম, প্রথমদিকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের সাথে সহযোগিতার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নবী মুহাম্মদ ও তার অনুসারী নু'আয়ম এর ধোঁকার কারণে তারা তা করতে পারেন নি। মুসলিমরা পুরো ঘটনা না বলে শুধু প্রথমের দুই পৃষ্ঠা বলে কিন্তু আসল চার পৃষ্ঠাই তারা বাদ দেয়। কারণ পুরো ঘটনা বললে সবাই বুঝতে পারবে, বনু কুরায়জার ভিতরে যাই থাকুক, শেষ পর্যন্ত তারা মুসলিমদের বিপক্ষে কোনো কিছু করে নি।


বনু কুরায়জা গোত্রকে ২৫ দিন যাবত অবরোধ করে রাখা হল। ২৫ দিন পর বনু কুরায়জা গোত্র মুসলিমদের নিকট আত্মসমর্পণ করল। তারপর রায় দেওয়া হয়, বনু কুরায়জার সকল বালেগ পুরুষকে গলা কেটে হত্যা করে মহিলা ও শিশুদের বাজারে বিক্রি করা হবে। বালেগ পুরুষ কিনা যাচাই করার জন্য বনু কুরায়জার পুরুষদের উলঙ্গ করে যাদের নাভির নিচে চুল পাওয়া গেছে, তাদেরকে হত্যা করা হল এবং যাদের নাভির নিচে চুল উঠে নি, তাদের বন্দি করে দাস বানানো হলো।


আতিয়্যা আল-কুরাযী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ


তিনি বলেন, আমাদেরকে বানূ কুরাইযার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে আনা হল। যাদের লজ্জাস্থানের লোম উঠেছে (বালেগদের) তাদেরকে হত্যা করা হল, আর যাদের তা উঠেনি (নাবালেগদের) তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হল। আমার লজ্জাস্থানে তখনও লোম উঠেনি। একারণে আমাকে মুক্ত করে দেওয়া হল। 


সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (২৫৪১)



ফুটনোটঃ

এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে, যে লোকের বয়স এবং বীর্যপাতের ব্যাপারে সঠিকভাবে অনুমান করা না যাবে- তার নাভির নীচের লোম উঠাই বয়ঃপ্রাপ্তির লক্ষণ বলে গণ্য হবে। এই অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহ্‌মাদ এবং ইসহাকও। 


জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৫৮৪

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD


বনু কুরায়জা হত্যাকান্ডের সঙ্গে নবী মুহাম্মদ সাঃ নিজে সম্পৃক্ত ছিলেন কি? উত্তর হলো হ্যাঁ, ছিলেন। পড়ুন সীরাতুন নবী (সা.) ৩য় খন্ড- ইবনে হিশাম (র.), পৃষ্ঠা ২৩৭। 


সবচেয়ে বড় কথা, দুষ্টের ছলের অভাব হয় না। এর আগে বনু কায়নুকা গোত্রকে নবী মুহাম্মদ একইভাবে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জনৈক সাহাবা নবী মুহাম্মদকে এ কাজে বাঁধা দেওয়ার কারণে বনু কায়নুকা গোত্র সে যাত্রায় বেঁচে যায়। এতে নবী খুব ক্ষিপ্ত হন এবং তখনই আল কুরআনে নাযিল হয়, "তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না"- সূরা মায়েদা, আয়াত ৫১। 

রেফারেন্সঃ সীরাতুন নবী (সা.) ৩য় খন্ড- ইবনে হিশাম (র.), পৃষ্ঠা ২৩-২৬ 

বনু কুরায়জার গণহত্যাকে জাস্টিফাই করার জন্য মুমিনরা প্রায়শই কিছু কুযুক্তি দিয়ে থাকে। 


কুযুক্তিঃ রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। বাংলাদেশে ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ড দেওয়া যদি আইনসম্মত হয়, বনু কুরায়জার শাস্তি মেনে নিতে কেন মুক্তমনা নামধারীরা আপত্তি করে? বনু কুরায়জা গোত্রও ইসলামি রাষ্ট্র মদিনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। 


জবাবঃ তারা যে শেষ পর্যন্ত কিছুই করে নি সেটা সীরাত থেকে প্রমাণ করেছি। যদি বিশ্বাসঘাতকতা করেও থাকে, তবুও শুধুমাত্র নাভির নিচের চুল উঠার অপরাধে একই দিনে একই গোত্রের ৮০০-৯০০ জনকে গণহারে মৃত্যুদন্ড দেওয়া যায় না। 


অন্যদিকে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় বনু কুরায়জার মতো কোনোরূপ বিচার ছাড়াই একই দিনে কার্যকর করা হয় নি, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে কোনো বিচার ছাড়াই বনু কুরায়জা গোত্রের ৮০০-৯০০ লোককে একই দিনে গলা কেটে হত্যা করা হয়।  


যদি বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটা যদি বনু কুরায়জা গোত্রের মতো হতো, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারাই শান্তি-কমিটি, রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সদস্য ছিল, তাদের সবাইকে ধরে এনে বনু কুরায়জার মতো একইদিনে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হতো। কিন্তু তা না করে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে বিচার করা হয়। তাদের অপরাধ ছিল খুন, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের মতো নৃশংস কর্মকান্ড। অথচ বনু কুরায়জা গোত্র শেষ পর্যন্ত কিছুই করে নি তারপরও তাদেরকে গণহারে হত্যার রায় দেয় মুসলিমরা। বনু কুরায়জা গোত্রের মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিকেই সুনির্দিষ্ট অপরাধ কিংবা উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করা হয় নি। নাভির নিচে চুল ওঠাই ছিল তাদের একমাত্র অপরাধ। 


বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, তাদের কারো মা,বোন,ছেলে,মেয়ে দের কি গণিমতের মাল বানানো কিংবা বাজারে বিক্রি করা হয়েছিল? অথচ বিচারটা যদি বনু কুরায়জার অনুরূপ হতো, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব পরিবারই পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, প্রত্যেক পরিবারের মহিলা ও শিশুদের গণিমতের মাল বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা হতো।


কুযুক্তিঃ বনু কুরায়জার কেবলমাত্র সেসব পুরুষকেই হত্যা করা হয়েছিল যাদের নাভির নিচে চুল পাওয়া উঠেছিল। এর অর্থ তারা সবাই যুদ্ধক্ষম পুরুষ ছিল। 


জবাবঃ আমরা সীরাত গ্রন্থ থেকে দেখলাম, কোনো প্রকার যুদ্ধই হয় নি। নবী মুহাম্মদ ও তার সাহাবি নু'আয়ম এর ছলনার কারণে বনু কুরায়জা কুরাইশ ও বনু গাতফান গোত্রকে বনু কুরায়জা যেখানে কোনো প্রকার সহযোগিতাই করতে পারে নি, সেখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা তো দূরের কথা। যেখানে কোনো রকম যুদ্ধই হয় নি, সেখানে যোদ্ধা এলো কোথা থেকে? কেউ যুদ্ধ না করেও শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষম হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করতে হবে এমন উদ্ভট ও অবান্তর থিওরি ইসলামের আগে অন্য কোনো ধর্ম দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। 

তার চেয়েও বড় কথা, বনু কুরায়জা সম্পর্কে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অভিযোগ কেউ করে নি। মুমিনরা বারবার যে কথা বলে আসছে তা হলো বনু কুরায়জা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং বনু কুরায়জাকে নাকি বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। মুমিনদের যুক্তি অনুযায়ী নাভির নিচে চুল উঠলে সে যুদ্ধক্ষম হয় কিন্তু নাভির নিচে চুল উঠলেই কি কেউ বিশ্বাসঘাতক হয়ে যায়? 


কুযুক্তিঃ বিচারের রায় মুহাম্মদ সাঃ দেন নি, রায় দিয়েছিল সাদ ইবনে মুয়াজ। 

জবাবঃ এই দাবীটি বনু কুরায়জা গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন দাবী। কারণ, রায় যেই দিক না কেন, কি রায় দেওয়া হবে সেটা ছিল মুহাম্মদ সাঃ কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত। অর্থাৎ নবী মুহাম্মদ আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন বনু কুরায়জাকে মৃত্যুদন্ড দিবেন। তার প্রমাণস্বরূপ কিছু স্ক্রিনশট দেওয়া হল সীরাতুন নবী (সা.) ৩য় খন্ড- ইবনে হিশাম (র.) পৃষ্ঠা ২৩৩-২৩৪ থেকে


বনু কুরাইজা গোত্রের সাথে সাথে নবী মুহাম্মদের কী করার পরিকল্পনা, সেটি নবী মুহাম্মদেরই এক অনুসারী আবূ লূবাবা ফাঁস করে দিয়েছিলেন। বনু কুরাইজা গোত্রকে ২৫ দিন অবরোধ করে রাখার পরে আবূ লূবাবাকে তিনি পাঠিয়েছিলেন বনু কুরাইজার দূর্গে। সেখানে ঢোকার পরেই বুকফাটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তারা আবূ লূবাবার কাছে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানাতে থাকে। নবী মুহাম্মদের অনুসারী হওয়ার পরেও নারী শিশুদের সেই কান্না দেখে মন গলে যায় আবূ লূবাবার। তিনি ইঙ্গিতে তাদের জানিয়ে দেন, আত্মসমর্পন করলে তাদের হত্যা করা হবে। নবী মুহাম্মদ সেই পরিকল্পনা করেই এসেছেন।


অপপ্রচারঃ বনু কুরায়জার লোকদের সম্মতিতেই সাদ ইবনে মুয়াজ কে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। 


জবাবঃ সম্মত হওয়া লোকেরা ছিলো আউস গোত্রের লোকজন, বনু কুরায়জার লোকজন নয়।

রেফারেন্সঃ সীরাতুন নবী (সা.) ৩য় খন্ড- ইবনে হিশাম (র.), পৃষ্ঠা ২৩৬


বনু কুরাইজাকে তাদের বিচারক নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা দেয়া বাস্তবস্মত এবং যৌক্তিক নয়, কেননা অপরাধী (মুহাম্মদের দৃষ্টিকোণ থেকে) নিজের বিচারক নিজে পছন্দ করে না। তাছাড়া, তখন ইতোমধ্যেই যেহেতু বনু কোরাইজা পরাজিত হয়ে নতি স্বীকার করেছে, তাই মোহাম্মদের কোন বাধ্যবাধকতা ছিলো না বনু কোরাইজার মতামত নিয়ে বিচারক নিয়োগ দেয়া।


আচ্ছা, তর্কের খাতিরে আমরা না হয় ধরেই নিলাম সাদ বিন মুয়াজ এর রায় মেনে নিতে সম্মত ছিলো বনু কুরাইজার লোকজন, কিন্তু সহিহ বুখারীর হাদিস অনুযায়ী, সাদ যখন ঘোষণা করলেন যে সকল পুরুষদের গলা কেটে হত্যা করা হবে, নারী ও শিশুদের বন্দি করা হবে, ঠিক তখনই মুহাম্মদ সাঃ বলে উঠেছিলো যে, সাদ সেই রায় দিয়েছে যা আল্লাহর রায় ছিলো। অর্থাৎ, মুহাম্মদ সাঃ সাথে সাথে এই রায়কে সাপোর্ট দিলো। সাদ গণহত্যার রায় দিলেও একজন প্রকৃত ভালো মানুষ কখনও এই রায়কে সাপোর্টও করতে পারতো না, বাস্তবায়ন তো দূরের কথা


পড়ুন জামে আত তিরমিজি আন্তর্জাতিক হাদিস নম্বর ১৫৮২

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ) আহ্‌যাব যুদ্ধের দিন তীরবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এতে তার বাহুর মাঝখানের রগ কেটে যায়। তার ক্ষতস্থানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগুনের সেঁক দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন। তারপর তার হাত ফুলে যায়। আগুনের সেঁক দেওয়া বন্ধ করলে আবার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আবার তিনি তার ক্ষতস্থানে আগুনের সেঁক দেন। তার হাত পুনরায় ফুলে উঠে। তিনি (সা’দ) নিজের এ অবস্থা দেখে বলেন, ‘হে আল্লাহ! আমার জীবনকে কেড়ে নিও না বানূ কুরাইযার চরম পরিণতি দেখে আমার চোখ না জুড়ানো পর্যন্ত। ” তার জখম হতে সাথে সাথে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল। এরপর আর একটি ফোঁটাও বের হয়নি। সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ)-কে তারা (বানূ কুরাইযা) সালিশ মানতে রাজী হয়। তিনি (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) তার (সা’দের) নিকট লোক পাঠালেন (সমাধানের জন্য)। তিনি সমাধান দিলেন যে, বানূ কুরাইযা গোত্রের পুরুষদেরকে মেরে ফেলা হবে এবং মহিলাদেরকে বাঁচিয়ে রাখা হবে। মুসলমানগণ তাদের দ্বারা বিভিন্ন রকম কাজ আদায় করতে পারবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাদের ব্যাপারে তোমার মত সম্পূর্ণ আল্লাহ্ তা’আলার মতের অনুরূপ হয়েছে। তারা (পুরুষগণ) সংখ্যায় ছিল চার শত। লোকেরা তাদেরকে মেরে ফেলা সমাপ্ত করলে, তার ক্ষতস্থান হতে আবার রক্ত পড়া আরম্ভ হল এবং তিনি মৃত্যু বরণ করলেন। সহীহ্, ইরওয়া (৫/৩৮-৩৯) ফুটনোটঃ আবূ সাঈদ ও আতিয়্যা আল-কুরাযী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৫৮২ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস Source: আল হাদিস অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, IRD



এবার চুক্তিভঙ্গের ঘটনাটি বিশ্লেষণ করব। 


১) মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা “শুনতে পান” যে, তাদের মারফত জোরপূর্বক মদিনা থেকে বিতাড়িত বনি নাদির গোত্রের নেতা হুয়েই বিন আখতাব, বনি কুরাইজা গোত্রের নেতা কাব বিন আসাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ও হুয়েইয়ের প্ররোচনায় কাব ‘চুক্তিভঙ্গ’ করেছেন। “কে তাদের এই খবরটি জানিয়েছে?” এ ব্যাপারে কোনো তথ্য এই উপাখ্যানের কোথাও নেই। 
২) হুয়েই বিন আখতাব ছিলেন সেই সব লোকদের একজন, যারা কুরাইশ ও ঘাতাফান গোত্রের কাছে গিয়েছিলেন ও তাদেরকে এই বলে আমন্ত্রণ করেছিলেন যে, তারা যেন তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ চালায়, যাতে তারা সকলেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী আক্রমণ থেকে সর্বাংশে মুক্তি পেতে পারেন। (পর্ব- ৭৭)
৩) হুয়েই বিন আখতাব ও কাব বিন আসাদের এই সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের “কোনো প্রত্যক্ষদর্শী (Eye witness) ছিলেন”,এমন কোনো আভাস এই বর্ণনার কোথাও নেই। যুদ্ধের ঐ পরিস্থিতিতে যদি কোনো মুহাম্মদ অনুসারী “মুহাম্মদ/আল্লাহর শত্রু” এই হুয়েই বিন আখতাবকে বনি কুরাইজার নেতার সাথে চাক্ষুস দেখতেন, তবে হুয়েই যে অক্ষত অবস্থায় ফিরে যেতে পারতেন না, তা শতভাগ নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। 
৪) মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা এই খবরটি “শুনতে পান।” খবরটি শুনে মুহাম্মদ চারজন লোককে এই ঘটনার সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের জন্য সেখানে পাঠান; তারা সেখানে গিয়ে দেখে যে তারা যা শুনেছিল তার চেয়ে “অবস্থা আরও শোচনীয়।”

“কী ভাবে তারা বুঝেছিলেন যে অবস্থা আরও শোচনীয়”?
বলা হচ্ছে, ‘তারা আল্লাহর নবী সম্বন্ধে অপমানজনক উক্তি করে ও বলে, “কে এই আল্লাহর নবী? মুহাম্মদের সাথে আমাদের কোনোই চুক্তি বা অঙ্গীকার নেই।”‘
এ এক অত্যাশ্চর্য বর্ণনা!

সম্পদশালী তিনটি বড় ইহুদি গোত্রের দু’টিকে অনেক আগেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা জোরপূর্বক বিতাড়িত করে তাঁদের সর্বস্ব লুণ্ঠন করেছেন।
আমরা আরও জেনেছি যে, যদি আবদুল্লাহ বিন উবাই ও তাঁর অনুসারীরা হস্তক্ষেপ না করতেন, তবে বনি কেউনুকা ও বনি নাদির গোত্রের সমস্ত মানুষকে মুহাম্মদ ও তাঁর অন্যান্য অনুসারীরা হত্যা করতেন। (পর্ব: ৫১, ৫২ ও ৭৫)
এমনই এক প্রেক্ষাপটে,
“মিত্র-বাহিনীর কাছ থেকে কোনরূপ সাহায্যের সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও;
মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অসম্মান অথবা বিরুদ্ধাচরণ করার ভয়াবহ নৃশংস পরিণতি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করা সত্ত্বেও”;
বনি কুরাইজার এই নেতা তাঁর ৬০০- ৯০০ জন জনবল নিয়ে মুহাম্মদ ও তাঁর তিন হাজার সুসজ্জিত অনুসারীর একেবারে নাগালের মধ্যে অবস্থান করে, “মুহাম্মদের অনুসারীদেরই সামনে মুহাম্মদের অসম্মান ও তাঁর অনুসারীদের গালাগালি করে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ‘চুক্তিপত্র’ ছিন্ন করেছিলেন” – এমন একটি বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?
নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে এমন নাটকীয় “চুক্তিভঙ্গ” ও ছিন্ন করার কিচ্ছা যুক্তির বিচারে একেবারেই অবাস্তব। বনি কুরাইজা যদি সত্যিই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতেন, তবে তাঁরা তা করতেন গোপনে; প্রকাশ্যে নয়!”


কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ 


https://www.shongshoy.com/archives/22430?amp


https://pathoksusupto.wordpress.com/2019/05/05/%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%81-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%87%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0/


https://akkasali.wordpress.com/2020/10/27/banu-qurayza-massacre/


https://pallahu.com/chutrapata/2645/%E0%A6%96%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%95-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A7%AA-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%9C%E0%A6%BE/

Comments

Popular posts from this blog

হিন্দু ধর্মে মূর্তি পুজা

প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বইয়ের মিথ্যাচারের জবাব